আপনার সন্তানকে যেসব কারণে অতিরিক্ত প্রযুক্তি থেকে দূরে রাখবেন

বর্তমান বিশ্ব হচ্ছে টেকনোলোজিক্যাল বিশ্ব। আমরা আমাদের যাবতীয় প্রয়োজনীয় ক্ষুদ্র কাজ থেকে শুরু করে অন্যান্য সকল জিনিসে টেকনোলোজির ব্যবহার করে থাকি।

স্মার্টফোন, কম্পিউটার, স্মার্ট ওয়াচ, আইপ্যাড, ট্যাব সহ যাবতীয় টেক ডিভাইসগুলো আজকে আমাদের নিত্য দিনের সঙ্গী। কোনো একটাকে ছাড়া জীবন প্রায় অসম্ভবই বলা যায়। আমরা খেতে গেলে, ঘুমাতে গেলে, কাজের সময়টাতে কিংবা ঘুরতে গেলেও এ ডিভাইসগুলোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি। আর বর্তমান বিশ্বে প্রত্যেক মানুষই নির্ভরশীল এই ডিভাইসগুলোর উপর।

তবে শুধু কি টেক পণ্যগুলো আমাদের জীবন সহজ করে দিচ্ছে? সুবিধার সাথে সাথে যে অসুবিধাগুলোও আছে সেটা কি আমরা ধরতে পারছি? আমাদের ছেলে-মেয়েরা এই ডিভাইস এবং ইন্টারনেটের টেক আশির্বাদগুলোর ব্যবহারে কতটুকু প্রভাবিত তা কি আমরা জানি?

আমরা ছেলে-মেয়েদের মাঝে টেকনোলোজির ব্যাপারে আগ্রহ তৈরির চেষ্টা করি। কিন্তু তারা যদি এসব ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার করে থাকে, তাহলে কী ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে তা আমাদের জানা উচিত নয় কি? আসুন আমরা জেনে নিই সেসবই।

১) সৃজনশীলতার অভাব তৈরি হবে

একজন বাচ্চা যখন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের সাথে নিজেকে সংযুক্ত করবে, তখন সে যা চায় তা-ই পাবে। সে কার্টুন দেখতে পারবে, গেম খেলতে পারবে। তারা তাদের হোমওয়ার্কের উত্তরগুলো গুগল থেকে সংগ্রহ করতে পারবে। তারা যখন দেখবে তাদের হোমওয়ার্কগুলো খুব গুছিয়ে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে দেয়া আছে, তখন তারা অতি সহজে সেখান থেকেই দেখে দেখে উত্তর লিখে দিতে পারবে। এতে করে তাদের ঐ হোমওয়ার্কটি নিয়ে চিন্তা করার প্রয়োজন হবে না।

এভাবে করে তারা অনেক মূল্যবান সৃজনশীল চিন্তাভাবনা থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিবে। এমনকি একটা সময় ব্যাপারটা এমন দাঁড়াবে, যখন তারা কোনো কারণে ইন্টারনেট এক্সেস থেকে বঞ্চিত থাকবে, তখন তারা নতুন করে অন্য কিছু করতে পারবে না। কেননা তারা ইন্টারনেটের উপর ততক্ষণে নির্ভরশীল হয়ে গেছে।

২) তাদের মাঝে জানবার ইচ্ছেটা কমে যাবে

যখন তারা অনুভব করতে পারবে যে, তারা সব তথ্য, লেখাপড়া বিষয়ক সমস্যার সমাধানগুলো ইন্টারনেট থেকে পাচ্ছে, তখন তাদের মধ্যে জানবার ইচ্ছেটা কমে যাবে।

আপনি ইন্টারনেটের এই যুগ থেকে পেছনের দিকে তাকান। তখন দেখা যেত বিভিন্ন তথ্য এবং সমাধানের জন্য অনেক বই ঘাটতে হতো। উত্তর না পেলে নিজে চিন্তা করতে হতো। কিন্তু যখনই ইন্টারনেটে এক্সেস করাটা সহজ হয়ে গেল আমরা তখন গুগলের উপর নির্ভরশীল হয়ে গেলাম। কোনো বিষয়ে জানার আগ্রহ বাদ দিয়ে আমরা সহজে ইন্টারনেট থেকে তা সংগ্রহ করা শুরু করলাম।

৩) অনুশীলনের অভাব তৈরি হবে

যখন কোনো সময় মনে রাখা প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে তখন আমরা সেই জিনিসটি বারবার অনুশীলনের মাধ্যমে মনে রাখতাম। কিন্তু বর্তমানে সেটা বাচ্চারা অনুশীলন করে মনে রাখার চেষ্টা করে না। কেননা তারা যে জিনিসটা চায় তা ইন্টারনেটে বহু পরিমাণে রয়েছে।

৪) পারস্পারিক সম্পর্ক তৈরি কমে যাবে

প্রত্যেক ছেলেমেয়েকে আমরা প্রথমেই যে জিনিস শিক্ষা দেই সেটা হচ্ছে আশেপাশের মানুষগুলোর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে নিজের সামাজিক জীবনকে সহজ রাখার কথা। কিন্তু বাচ্চারা যখন সবকিছু ইন্টারনেটে এক্সেসের মাধ্যমেই পাচ্ছে, তখন তারা তাদের আশেপাশের বন্ধুবান্ধব সহ অন্যান্য মানুষগুলোর সাথে সম্পর্ক রাখতে চায় না, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করে।

Comments
Comments

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.