ম্যাক কেনার আগে যে বিষয়গুলো অবশ্যই জানতে হবে

একটি নতুন আইফোন কেনা যত সহজ একটি নতুন ম্যাক কেনা ততটা সহজ নয়। কারণ দুয়ের মাঝে বিস্তর তফাৎ রয়েছে। আমরা যখন কোনো আইফোন কিনি তখন সাধারণত এর দাম, কালার এবং ধারণক্ষমতা নিয়েই ভাবি। কিন্ত যখন একটি ম্যাক কিনি তখন অনেকগুলো বিষয় মাথায় রাখতে হয়। যেমন- বহনযোগ্যতা, ক্ষমতা, কাজের গতি, স্টোরেজ, স্ক্রিন সাইজ প্রভৃতি।

ম্যাকের নির্মাতা অ্যাপলের বিভিন্ন ধরনের ম্যাক রয়েছে। যদি আপনার একটি ডেক্সটপ দরকার হয় সেক্ষেত্রে রয়েছে mac mini, imac, mac pro ইত্যাদি। আর বহনযোগ্যতা যদি আপনার প্রথম পছন্দ হয়, সেক্ষেত্রে রয়েছে Macbook Air, Macbook, Macbook Pro ইত্যাদি।

একটি নতুন ম্যাকবুক কেনা একটি লং–টার্ম ইনভেস্টমেন্ট। আপনি অবশ্যই চাইবেন না একটি ভুল ম্যাক কিনে পরবর্তীতে বছরের পর বছর অনুশোচনা করতে। তাই আপনাদের জন্য নিচে বিভিন্ন রকম ম্যাক সম্পর্কে তুলে ধরা হলো।

Mac Mini

ম্যাক জগতের বর্তমানে সবচেয়ে সাশ্রয়ী কম্পিউটার হলো ম্যাক মিনি। একটি ম্যাক মিনির দাম একটি আইফোনের মতোই। কিন্ত এটি আসলে সম্পূর্ণ কম্পিউটার নয়। এককথায় বলতে গেলে, এটি একটি CPU। কিন্ত এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এটি আকারে অনেক ক্ষুদ্র। ফলে যেকোনো ডেস্কে সহজেই একে রাখা যায়। এটি কোর–আই ৫ দ্বারা পরিচালিত। যারা বেশি ভারি কাজ করতে চান না, তবে ম্যাক এর স্বাদ সহজেই পেতে চান, তাদের জন্য এটি একেবারে একটি আদর্শ ম্যাক।

IMac

আইম্যাককে আমরা অনেকেই কম-বেশি চিনি। কারণ এটি ম্যাকের সবচেয়ে প্রচলিত কম্পিউটার। এর বিশেষত্ব হলো এর মনিটর। কারণ এর সকল কিছু এর ২১ ইঞ্চি মনিটরের মাঝেই বিদ্যমান।

আইম্যাকের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার দেখা যায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। এছাড়াও অনেকে নিজের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্যেও আইম্যাক কিনে থাকেন।

Mac Pro

ম্যাক প্রো বর্তমানের প্রচলিত শক্তিশালী কম্পিউটারগুলোর মাঝে অন্যতম। এর মাঝে শক্তিশালী প্রসেসর ও গ্রাফিক্স ব্যবহার করা হয়েছে যা একে করে তুলেছে অনন্য। একে একটি আল্টিমেট পাওয়ার হাউজও বলা যায়।  গেমারদের জন্য এটি একটি অনন্য কম্পিউটার। এর সবচাইতে বেশি ব্যবহার দেখা যায় গবেষণা ক্ষেত্রে। এছাড়াও বড় বড় ব্যবসাক্ষেত্রে এর ব্যবহার বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়।

Macbook Air

ম্যাকবুকের সাথে আমরা সবাই কম-বেশি পরিচিত। ম্যাক ওএস চালিত অ্যাপলের যে ল্যাপটপ তা-ই ম্যাকবুক।আর সবচেয়ে ক্ষুদ্র ম্যাকবুকের নামই হলো ম্যাকবুক এয়ার। এটি দুটি ভার্সনে পাওয়া যায়। ১১ ইঞ্চি এবং ১৩  ইঞ্চি। ১১ ইঞ্চি আকারের যেটি সেটি দেখতে অনেকটা নেটবুকের মতোই। এর বিশেষত্ব হলো এর ব্যাকআপ টাইম। অর্থাৎ একবার চার্জ দিলে আপনি সারাদিন অনায়াসে পার করে দিতে পারবেন।

Macbook Pro

ম্যাকবুক প্রো অনেকটা আই ম্যাক প্রো এর মতোই। ম্যাকবুক প্রো-কে আপনি আপনার ডেস্কটপের রিপ্লেসমেন্ট হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন। কারণ এর হাই কনফিগারেশন। এতে রয়েছে ১৫ ইঞ্চি রেটিনা ডিসপ্লে এবং ৭ ঘন্টা ব্যাটারি ব্যাকআপ। কনফিগারেশনের সাথে সাথে এর দামও আকাশচুম্বি। তবে এর পারফর্মেন্সের সাথে তুলনা করলে এর দামকে স্বাভাবিকই বলা যায়। এ তো গেল ম্যাকবুক এর বর্ণনা। তবে আর দেরি না করে জলদি সিন্ধান্ত নিয়ে নিন আর কিনে ফেলুন আপনার ম্যাক।

Comments
Comments

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.