রাশিয়ার মেডিকেলে আপনি কেন পড়তে যাবেন?

রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষা

ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিক্ষাদীক্ষা, খেলাধুলা, ভ্রমণ, স্থাপত্যকর্ম সহ নানাবিধ বিষয়ে বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত যে দেশ, তার নাম রাশিয়া। এখানে পড়তে আসা শিক্ষার্থীরা কেবল যে উন্নত শিক্ষাই পেয়ে থাকে তা না, বরঞ্চ তাদের জন্য রয়েছে দেশটির শত-সহস্র বছরের পুরনো ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি। সহস্রাধিক শহরের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই দেশ থেকে উঠে আসা বিশ্বখ্যাত সব বিজ্ঞানী, গবেষক, চিকিৎসক, শিল্পী, ভাস্কর, লেখক, অভিনেতা, দার্শনিকেরা যেন প্রেরণা হয়ে ওঠেন দেশটিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য, নিরন্তর অনুপ্রেরণা দিয়ে যান তাঁদের পথ অনুসরণ করে বিখ্যাত হয়ে উঠতে।

শিক্ষার্থীদের জন্য যত সুযোগ-সুবিধা

১) স্বল্প খরচে সর্বোচ্চ মানসম্মত শিক্ষা: রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে পড়াশোনার খরচ একই ক্ষেত্রে আমেরিকা, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের খরচের চেয়ে অনেক গুণ বেশি সাশ্রয়ী। এছাড়া যদি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মানের দিকেও খেয়াল করেন, তাহলেও দেখা যাবে পাশ্চাত্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে বেশ ভালোই প্রতিযোগিতায় সক্ষম রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

২) স্কলারশিপ: বিশ্বের স্বল্প সংখ্যক দেশের মাঝে রাশিয়া একটি যারা বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি টিউশনের ব্যবস্থা করে থাকে। প্রতি বছরই রাশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য কয়েক হাজার স্কলারশিপ (কোটাভিত্তিক) দেয়া হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরুপ, ২০১৯ সালে রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সর্বমোট ১৫,০০০ কোটা সংরক্ষিত ছিলো বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য।

৩) অবিশ্বাস্য কম খরচে থাকা-খাওয়া: মানসম্মত শিক্ষার এবং স্কলারশিপের সাথে সাথে শিক্ষার্থীদের জন্য রাশিয়ায় আছে অবিশ্বাস্য কম খরচে থাকা-খাওয়ার সুব্যবস্থা। মাসে ১০ হাজার টাকার ভেতরেই একজন শিক্ষার্থীর থাকা-খাওয়াসহ যাবতীয় হাতখরচের কাজ সমাধা হয়ে যাবে। এই সংক্রান্ত বিস্তারিত এই লেখার পরবর্তী অংশে আলোচনা করা হয়েছে।

৪) স্বল্প খরচে চলাফেরা: রাশিয়ার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে সকল শিক্ষার্থী ফুল-টাইমে পড়াশোনা করছেন, তারা মেট্রো, বাস, ট্রলিবাস ও ট্রামের মতো পাবলিক ট্রান্সপোর্টগুলোতে বেশ সাশ্রয়ী মূল্যে চলাফেরা করতে পারেন। উদাহরণস্বরুপ, সাধারণ নাগরিকদের তুলনায় সাত ভাগের এক ভাগ ভাড়া দিয়েই শিক্ষার্থীরা রাশিয়ায় মাসিক মেট্রো পাস নিতে পারেন।

৫) সাশ্রয়ী মূল্যে কেনাকাটা: দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানি নিয়মিতভাবেই রাশিয়ায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা দিয়ে থাকে। স্টোরগুলো নিয়মিতভাবেই শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন অফারের লিফলেট বিলি করে বিশ্ববিদ্যালয়, লাইব্রেরি ও ক্যাফেগুলোতে। বিশেষ করে স্টুডেন্ট হলিডে ও যেকোনো অ্যাকাডেমিক ইয়ারের শুরুতে এসব অফার থাকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে।

রাশিয়ায় মেডিকেল বিষয়ে পড়াশোনার বিস্তারিত

ডাক্তারি পড়াশোনার জন্য সারা বিশ্বের শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য একটি স্থান হলো রাশিয়া। পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে তুলনা করলে দেখা যাবে যে, রাশিয়ায় পড়াশোনার খরচ অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশ সাশ্রয়ী। এর পেছনে মূলত কাজ করছে বিদেশ থেকে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য রাশিয়ান সরকারের দেয়া ভর্তুকি। এছাড়াও আরও কিছু কারণে রাশিয়ায় মেডিকেল বিষয়ে পড়তে চাওয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেমন-

১) দেশটির অধিকাংশ মেডিকেল কলেজেই ভর্তির জন্য কোনো ভর্তি পরীক্ষার প্রয়োজন পড়ে না। মাধ্যমিক পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান বিষয়ে কমপক্ষে ৫০% মার্কস পেলেই কোনো ছাত্র রাশিয়ার মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে।

২) বিদেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীরা যাতে সহজেই এখানে পড়াশোনা করতে পারে, সেজন্য অনেক রাশিয়ান মেডিকেল কলেজেই রয়েছে সরাসরি ইংরেজিতে পড়াশোনার সুযোগ। তবে বিদেশী শিক্ষার্থীদের পরামর্শক দেয়া হয় যেন তারা রাশিয়ান ভাষা শিক্ষার বেসিক কোর্সটি অন্তত করে রাখেন, কেননা এটি তাদেরকে রোগীদের সাথে সহজে আলাপচারিতায় সাহায্য করবে।

কেন মেডিকেলে পড়তে আপনি রাশিয়াতেই যাবেন?

এতক্ষণে হয়তো আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে শুরু করেছে, “কেন আমি ডাক্তার হতে রাশিয়াতেই যাবো?” এখন তাহলে এর কারণগুলোই চলুন জেনে নেয়া যাক একে একে-

১) রাশিয়ার অধিকাংশ উপরের সারির মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতেই বিদেশী শিক্ষার্থীদের কোনো ভর্তি পরীক্ষা দিতে হয় না। মাধ্যমিক পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান বিষয়ে কমপক্ষে ৫০% মার্কস পেলেই কোনো ছাত্র রাশিয়ার মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে।

২) মেডিকেলে বিদেশী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য সরকার বিভিন্ন রকম সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে।

৩) পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে তুলনা করলে রাশিয়ায় থাকা-খাওয়ার খরচ আপনার হাতের নাগালেই।

৪) এখান থেকে পাস করে বেরিয়ে আপনি বিশ্বের যেকোনো দেশেই কাজ করতে পারবেন, কারণ রাশিয়ার মেডিকেল শিক্ষাব্যবস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত।

৫) আপনাকে নতুন করে রাশিয়ান ভাষা শিখতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। ইংরেজি ভাষা জানা থাকলেই আপনি সেখানে পড়াশোনা করতে পারবেন।

৬) GRE, IELTS বা TOEFL দেয়ার কোনো দরকারই নেই।

৭) ইন্টার্নশিপ চলাকালে বিশ্বমানের হাসপাতাল ও ডাক্তারদের সংস্পর্শে আসার সুযোগ।

মেডিকেল কোর্সের সময়কাল

রাশিয়ায় মেডিকেল ডিগ্রিকে বলা হয় এমডি (ডক্টর অফ মেডিসিন)। এই ডিগ্রি একজন শিক্ষার্থী জেনারেল মেডিসিন, ডেন্টাল কিংবা স্পোর্টস মেডিসিন বিষয়ে করতে পারবেন। আপনি কোন প্রোগ্রামে এবং কোন ভাষায় কোর্সটি করতে চাচ্ছেন তার উপর ভিত্তি করে সময় লাগবে সব মিলিয়ে ৫-৭ বছর। নিচের ছবিটি দেখলেই বিষয়টি আপনার কাছে পরিস্কার হয়ে যাবে।

ডিগ্রির নামইংরেজি ভাষায় শিক্ষার সময়কালরাশিয়ান ভাষায় শিক্ষার সময়কাল
জেনারেল মেডিসিন৬ বছর৭ বছর (১ বছরের ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্সসহ)
ডেন্টাল৫ বছর৬ বছর (১ বছরের ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্সসহ)
স্পোর্টস মেডিসিন৬ বছর৭ বছর (১ বছরের ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্সসহ)
উল্লেখ্য, রাশিয়ার এই এমডি ডিগ্রি বাংলাদেশের এমবিবিএস ডিগ্রির সমতুল্য।

যোগ্যতা

আপনি যদি রাশিয়ায় মেডিকেলে পড়তে চান, তাহলে বাংলাদেশের হিসেবে

  • আপনাকে এইচএসসি পাস হলেই হবে।
  • এসএসসি ও এইচএসসি মিলিয়ে জিপিএ কমপক্ষে ৮ হতে হবে (১০ এর মাঝে)।
  • পাঠ্যবিষয় হিসেবে অবশ্যই জীববিজ্ঞান, রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান ও ইংরেজি থাকতে হবে।
  • জীববিজ্ঞান, রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞানে কমপক্ষে ৫০% নাম্বার পেতে হবে।

পড়াশোনার খরচ

রাশিয়ায় মেডিকেল পড়ার অন্যতম বড় সুবিধা হলো এর সাশ্রয়ী টিউশন ফি। মেডিকেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদেশি ছাত্রদের পড়ালেখার জন্য রাশিয়ার সরকার প্রতিবছরই ৮০-৯০% ভর্তুকি দেয়, অর্থাৎ বিদেশি ছাত্রদেরকে মূলত বাকি ১০-২০% খরচ বহন করতে হয়।

উদাহরণস্বরুপ আপনি ৬ বছরের জেনারেল মেডিসিন কোর্সের কথাই ভাবতে পারেন। ৬ বছরের এই কোর্সে ভর্তি হলে আপনার সর্বমোট খরচ পড়বে প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা, যা আপনাকে একবারে দিতে হবে না কখনোই। বরঞ্চ ধাপে ধাপে ৬ বছরে আপনাকে এই খরচ পরিশোধ করতে হবে।

থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা

বাইরের দেশ থেকে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য চমৎকার থাকার ব্যবস্থা রয়েছে মেডিকেল ইউনিভার্সিটির ডরমেটরিতে। সাধারণত এসব ডরমেটরি ক্যাম্পাসেই কিংবা ভার্সিটি থেকে সামান্য দূরত্বে থাকে।

প্রতি রুমে থাকে ২-৪ জন শিক্ষার্থীর থাকার সুব্যবস্থা। সাধারণত এমন একটি রুমে থাকে রাইটিং ডেস্ক, চেয়ার, ক্লোজেট, বইয়ের তাক, বিছানাসহ একজন শিক্ষার্থীর ঠিকমতো পড়াশোনা ও থাকার জন্য যা যা দরকার তার সবই।

এছাড়াও ডরমেটরিতে রয়েছে রান্নাঘর, জিম, ক্যান্টিন, কমন রুমের সুব্যবস্থা। লকার রুম আর বাইসাইকেল শেড আছে। আছে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তার ব্যবস্থা।

অবশ্য ডরমেটরিতে থাকাকালে একজন শিক্ষার্থীকে বেশ কিছু নিয়ম অবশ্যই মেনে চলতে হবে, যার মাঝে আছে কোনো আসবাবপত্রের ক্ষতি না করা, নিজের রুম পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, উচ্চশব্দে গান না বাজানো, দীর্ঘদিন না থাকলে হল সুপারভাইজরকে জানিয়ে যাওয়া প্রভৃতি।

থাকা-খাওয়া মিলিয়ে একজন শিক্ষার্থীর বাংলাদেশী টাকায় ১০-১৫ হাজারের মাঝে বেশ ভালোভাবেই চলে যাবে প্রতি মাস।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

ডিপার্টমেন্ট অফ ফেডারেল মাইগ্রেশন সার্ভিস অফ দ্য রাশিয়ান ফেডারেশন থেকে ‘ইনভাইটেশন লেটার ফর স্টাডি’ পাওয়ার পর শিক্ষার্থীকে প্রথমেই রাশিয়ার ভিসা পেতে তার দেশের রাশিয়ার দূতাবাসে যেতে হবে। ভিসা পেতে হলে যে যে কাগজপত্র প্রয়োজন তা হলো:

  • বৈধ পাসপোর্ট
  • ভিসার জন্য নির্ধারিত সম্পূর্ণ অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম
  • ২টি পাসপোর্ট সাইজের ছবি (৩৫ মি.মি. x ৪৫ মি.মি.)
  • যে কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী পড়বে, সেই প্রতিষ্ঠানের অ্যাডমিশন লেটার
  • এইডস সার্টিফিকেট

এছাড়াও রাশিয়ায় থাকাকালীনও কিছু কাগজপত্র শিক্ষার্থীকে সবসময় সাথে রাখতে হয়।

  • পাসপোর্ট (কমপক্ষে ২ বছরের জন্য বৈধ)
  • স্টুডেন্ট এন্ট্রি ভিসা
  • ইমিগ্রেশন কার্ড (বিমানবন্দর থেকেই ছাত্রকে দেওয়া হবে এবং সেখানে বসেই পূরণ করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিল দিয়ে দেবে)
  • মেডিকেল হেলথ সার্টিফিকেট
  • নেগেটিভ এইডস টেস্ট-এর কার্ড
  • পাসপোর্ট সাইজের ছবি

পার্ট-টাইম কাজের সুযোগ

রাশিয়ায় পার্ট-টাইম কাজের সুযোগের জন্য বিদেশী শিক্ষার্থীদের বয়স অবশ্যই ১৮ বছরের উর্ধ্বে হতে হবে। সেই সাথে জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ফর মাইগ্রেশন ইস্যুস অফ দ্য ইন্টেরিয়র মিনিস্ট্রি অফ রাশিয়া থেকে লাগবে অনুমতিপত্র। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কোনো সংগঠনে কাজ করতে বিদেশী শিক্ষার্থীদের কোনো অনুমতিপত্রের দরকার হবে না।

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়নরত যে বিদেশী শিক্ষার্থীরা ফুল-টাইম কোর্সে আছেন, কেবলমাত্র তারাই এই অনুমতিপত্র পাবেন। আবার সেই অনুমতিপত্রে যে পেশা ও অঞ্চলের কথা উল্লেখ করা থাকবে, একজন শিক্ষার্থী শুধুমাত্র সেই পেশা ও অঞ্চলেই কাজ করতে পারবেন।

এ ধরনের একটি অনুমতিপত্র দেয়া হয়ে থাকে ১ বছরের জন্য। এরপর আবার এটি নবায়ন করিয়ে নিতে হয়। যদি একজন শিক্ষার্থী তার কোর্স ছেড়ে দেন, তাহলে তার অনুমতিপত্রও বাতিল হয়ে যায়।

এখন অবশ্য বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট পাবার বিষয়টি অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে। ওয়ার্ক পারমিট পেতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সংখ্যা যেমন কমেছে, তেমনই পুরো কাজটি হয়ে যেতে সময় লাগে মাত্র ১০ দিন।

ভবিষ্যত কর্মসংস্থান

রাশিয়ার মেডিকেল ইউনিভার্সিটি থেকে ৫-৭ বছরের মাঝে আপনি যে এমডি (ডক্টর অফ মেডিসিন) ডিগ্রিটি অর্জন করছেন তার স্বীকৃতি রয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনেস্কো থেকেই। ফলে পাস করার পর আপনার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে বিশ্বের যেকোনো দেশে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার সুবর্ণ সুযোগ।

মেডিকেলে পড়াশোনায় তুলনামূলক খরচের হিসাব: বাংলাদেশ বনাম রাশিয়া

রাশিয়ায় মেডিকেল পড়াশোনা নিয়ে আলাপচারিতার একেবারে শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি আমরা। এখন চলুন দেখে নেয়া যাক বাংলাদেশে প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এবং রাশিয়ায় সরকারি মেডিকেল কলেজে পড়ার খরচের তুলনামূলক একটি চিত্র।

বাংলাদেশের প্রাইভেট মেডিকেল কলেজগুলোতে পড়তে আপনার শুরুতেই এককালীন হিসেবে জমা দেয়া লাগবে ১৮-২২ লাখের কাছাকাছি টাকা। পরবর্তীতে মাসিক টিউশন ফি হিসেবে আছে আরও ৮-১০ হাজার টাকা। অর্থাৎ, মাসিক টিউশনের এই খরচটি ৫ বছর শেষে দাঁড়াবে ৪ লক্ষ ৮০ হাজার থেকে ৬ লাখ টাকার কাছাকাছি। এর মাঝে শুরুর এককালীন অর্থের বিষয়টি অনেকের কাছেই মাত্রাতিরিক্ত হয়ে দেখা দেবে, যা শিক্ষার্থীদের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নের পথে এক বিরাট বড় অন্তরায় হয়ে দেখা দেয়। অনেকে বাবা-মা তাই তাদের সন্তানকে ডাক্তার বানাতে চাইলেও এত খরচ দেখে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হন।

ওদিকে আপনি যদি রাশিয়ার সরকারি মেডিকেল ইউনিভার্সিটির কথা চিন্তা করেন, তাহলে দেখতে পাবেন সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। উদাহরণস্বরুপ, আমরা রাশিয়ার রোস্তভ স্টেট মেডিকেল ইউনিভার্সিটির কথাই বলতে পারি। এখানে একজন শিক্ষার্থীর ৬ বছরের জেনারেল মেডিসিন কোর্সের জন্য দরকার সব মিলিয়ে ২৪ লাখের মতো টাকা। ভয় পেয়ে গেলেন? না, ভয় পাবার কিছু নেই। এই টাকা আপনাকে একবারে পরিশোধ করতে হবে না কখনোই। বরঞ্চ ৬ বছর ধরে ধাপে ধাপেই শিক্ষার্থী এই অর্থটি পরিশোধ করতে পারছে। অর্থাৎ বছরে খরচ মাত্র ৪ লাখ টাকার কাছাকাছি। সেই সাথে তাদের আছে চমৎকার ডরমেটরি সুবিধা। ফলে থাকা-খাওয়া নিয়েও একজন শিক্ষার্থীকে কোনো দুশ্চিন্তা করতে হচ্ছে না বললেই চলে।

শুধুমাত্র আপনার জন্যই রাশিয়ার মেডিকেলে পড়ার জন্য ওয়াইএসআই বাংলা লিমিটেড নিয়ে এসেছে চমৎকার একটি প্যাকেজ, যেখানে আছে একের ভেতর সাত!

  • ১০০% ভিসার নিশ্চয়তা
  • অ্যাডমিশন লেটার
  • ইনভাইটেশন লেটার
  • ১ বছরের টিউশন ফি
  • ১ বছরের হোস্টেল ফি
  • মেডিকেল ও ইন্স্যুরেন্স ফি
  • সার্ভিস চার্জ

তাহলে আর দেরি কেন? আজই যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে। রাশিয়ার মেডিকেলে পড়াশোনা করে গড়ে তুলুন আপনার স্বপ্নের ক্যারিয়ার। আমাদের সাথে যোগাযোগের জন্য পূরণ করে ফেলুন নিচের ফর্মটি:

যেকোনো বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করুন এই নাম্বারে: +8801685456708

Comments
Comments

Comments are closed.