আপনার সন্তানকে স্কুলে ভর্তির জন্য যেভাবে প্রস্তুত করবেন – পর্ব ২

এই পর্বে আলোচনা করা হয়েছে কিভাবে স্কুল নির্বাচন করবেন এবং এডমিশন টেস্টের প্রস্তুতি নিয়ে

স্বাগতম স্কুলে ভর্তি প্রস্তুতিতে। আজ আলোচনা করা হয়েছে কিভাবে স্কুল নির্বাচন করবেন এবং এডমিশন টেস্টের প্রস্তুতি নিয়ে। চলুন শুরু করা যাক।

স্কুল নির্বাচন করবেন কীভাবে

স্কুল বাছাই কিন্তু বেশিরভাগ বাবা-মায়ের কাছেই একটি সমস্যা। বাবার একরকম মত তো মায়ের আরেকরকম। কিন্তু সবার আগে কয়েকটা দিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখুন।

১। বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব। স্কুল থেকে বাড়ি খুব দূরে হলে বাচ্চার স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব পড়বেই।
২। মিডিয়াম অব ইনস্ট্রাকশন বা পড়াশোনার মাধ্যম। ইংরেজি বা বাংলা যা-ই হোক না কেন, প্রস্তুতির সময় সে বিষয়েই জোর দিতে হবে।
৩। পড়াশোনা এবং কো-কারিকুলার কাজকর্মের মধ্যে ভারসাম্য।
৪। স্কুলের বোর্ড অব অ্যাফিলিয়েশন।
৫। স্কুলের প্রশাসন এবং ফলাফল।

অ্যাডমিশন টেস্টের প্রস্তুতি

১) ছোট থেকেই বাচ্চাকে গল্প শোনানো এবং গল্প বলার অভ্যাস তৈরি করে দিন। বই থেকেও গল্প পড়ে শোনান। এতে আস্তে আস্তে ওর নিজেরও পড়ার উৎসাহ গড়ে উঠবে।

২) শিক্ষামূলক ঘরোয়া খেলা খেলুন সবাই মিলে। ওয়ার্ড মেকিং, কাউন্টিং, কালার্স, শেপস, সাইজেজ- এভাবেই ও শিখে যাবে।

৩) বাড়িতে একটই ডিসিপ্লিনড পরিবেশ বজায় রাখুন। ঠিক সময়ে খাওয়া, ঘুমাতে যাওয়া, দিনের একটি নিদিষ্ট সময় খেলতে যাওয়া, পড়তে বসার অভ্যেস করলে স্কুলের ডিসিপ্লিনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অসুবিধে হবে না।

৪) সন্তানের মাঝে স্কুলের ব্যাপারে একটি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করুন। টিচার-স্টুডেন্ট সেজে একটা মজার খেলাও খেলতে পারেন বাচ্চার সঙ্গে।

৫) বাচ্চা আর বাবা-মায়ের পজিটিভ সম্পর্ক খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেটা ঠিকঠাক বজায় রাখার চেষ্টা করতে হবে। আপনাদের দেখেই ও আত্মবিশ্বাস পাবে।

৬) পড়াশোনা নিয়ে কখনও জোরজবরদস্তি করবেন না। ও যতটা বুঝতে পারে বা শিখতে পারে, ততটাই পড়ান। প্রথম থেকে চাপ দিলে পড়াশোনার আগ্রহ কমে যাবে।

৭) ছেলেবেলায় প্রকৃতির সঙ্গে শিশুর একটি যোগাযোগ তৈরী করুন। ছোট্ট একটা গাছের চারা উপহার দিয়ে ওর উপর যত্নআত্তির ভার দিন। বাগানে গিয়ে ফুলপাতা চেনান। ঘুরতে নিয়ে যান ছুটির দিনে। টিভিতেও গাছপালা বা জন্তু-জানোয়ার সংক্রান্ত অনুষ্ঠান একসঙ্গে দেখুন।

৮) সব সময় বই দেখে মুখস্থ না করিয়ে গল্পের মাধ্যমে ওকে পড়ান। মাঝে মাঝে ওকে টিচার হতে দিয়ে, নিজে স্টুডেন্ট হয়ে যান। এভাবে ও পড়ায় মজা পাবে।

৯) বাচ্চার সামনে অযথা টেনশন না করাই ভাল। সবসময় পজিটিভ মনোভাব বজায় রাখুন। সন্তানকে এটাও বুঝিয়ে দিন যে, ও যদি পরীক্ষায় ভালো না-ও হতে পারে, আপনার কাছে ওর মূল্য একটু কমবে না। আপনি ওকে আগের মতোই ভালবাসবেন।

১০) স্কুল সম্পর্কে বাচ্চার উৎসাহ তৈরি করতে সাহায্য করা উচিৎ। সেক্ষেত্রে নিজেদের ছোটবেলার সুখের কথা, স্কুলের ভালো লাগার মুহূর্তের কথা বুলন। সম্ভব হলে নিজের ছেলেবেলার স্কুলে বাচ্চাকে নিয়ে যান।

১১) আপনি আপনার সন্তানের রোল মডেল। ওকে যা শেখাচ্ছেন, সেটা যদি আপনারা ফলো না করেন, তাহলে ওর কাছে ভুল মেসেজ যাবে। হয় ও আপনার উপর থেকে বিশ্বাস হারাবে নয়তো পরে কোনোভাবে আপনার এই দুর্বলতার সুযোগ নিবে।

Comments