আপনার সন্তানকে স্কুলে ভর্তির জন্য যেভাবে প্রস্তুত করবেন – পর্ব ১

দেখতে দেখতে আপনার ছোট্ট সোনা চার বছর বয়সে পা দিল। অতএব স্কুলে ভর্তি হওয়ার সময় আসন্ন। সম্পূর্ণ এক নতুন জগতে পা দেওয়ার আগে কীভাবে তৈরি করবেন আপনার সন্তানকে? নিজেই বা কী প্রস্তুতি নিবেন স্কুলে? খুঁটিনাটি খবর নিয়েই আজকের আলোচনা।

ছোট্ট পরিবার। অনেক ক্ষেত্রেই বাবা আর মা দুজনেই কর্মরত। বাড়ির খুদে সদস্যটি সমবয়সীদের সান্নিধ্য পায় না বললেই চলে। বাবা, মা এবং বাড়ির অন্যরাও সারাদিন কাজে ব্যস্ত থাকেন। ফলে সব সচ্ছলতা থাকা স্বত্ত্বেও একা একা বড় হয়ে ওঠা শিশুটির শৈশব কেমন যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

এই একাকিত্ব থেকে শিশুকে খানিকটা মুক্ত করে স্কুল। ফলে স্কুল যাওয়ার বয়সে এখন কমে দাঁড়িয়েছে সাড়ে তিন বা চারে। এছাড়াও শিশুর মানসিক এবং শারীরিক বিকাশের ক্ষেত্রেও একটি ভাল স্কুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুন্দর পরিবেশে, দায়িত্ববান শিক্ষক এবং বন্ধুদের সান্নিধ্যে বড় হয়ে ওঠার উদ্দ্যেশ্যেই আজও বেশিরভাগ বাবা-মা খুঁজে বেড়ান তাদের আদরের সন্তানের জন্যে একটি মনের মতো স্কুল।

উপরের আলোচনাটা পড়ে স্কুলে যাওয়ার ব্যাপারটা যতটা সহজ মনে হচ্ছে, বাস্তবিক চিত্রটি ঠিক ততটা নয়। কারণ আর কিছুই নয়, মাঝে রয়েছে স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা। প্রচন্ড দুরন্ত শিশুকে শিখিয়ে পড়িয়ে তৈরি করার কথা ভাবলেই তো গায়ে জ্বর আসে। ঠিকমত শেখালে যে বাচ্চা স্কুলে গিয়ে ঠিকঠাক উত্তর দেবে, তারও কোনো গ্যারন্টি নেই। কোনো কোনো স্কুলে তো আবার বাবা-মায়েদেরও পরীক্ষা হয়।

কিন্তু পদ্ধতি যতই জটিল হোক, কিছু প্রাথমিক প্রস্তুতি তো নিতেই হবে। বইখাতার ঝঞ্ঝাটে যাওয়ার আগে বাচ্চাকে বাইরের পৃথিবী সম্পর্কে একটা ধারণা গড়ে তুলতে সাহায্য করাই প্রস্তুতি প্রথম ধাপ।

বাচ্চাকে সমবয়সীদের সঙ্গে মেশার সুযোগ করে দিন। চেষ্টা করূন রোজ একটু ফ্ল্যাটের কম্পাউন্ড বা ধারে-কাছের পার্কে বেড়াতে নিয়ে যেতে। যাতে ও অন্যান্য বাচ্চার সঙ্গে ছোটাছুটি করে খেলতে পারে। ছুটির দিনে ঘন্টা দুয়েক ওকে মাঠে খেলার সুযোগ দিন। বসে খেলা দেখার থেকে নিজে দৌড়াদৌড়ি করে খেলতে উৎসাহ দেওয়া উচিৎ। এতে খেলার হার-জিত এবং খেলার নিয়মগুলো মানতে শিখবে।

বাড়িতে কেউ বেড়াতে এলে বা আপনারা কারও বাড়িতে গেলে বাচ্চাকে সবার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিন। অতিথিদের সঙ্গে ওকে নিজের মতো কথা বলতে, খেলা করতে দিন। সমবয়সী বাচ্চা থাকলে ওর বই, খেলনা, চকোলেট শেয়ার করতে উৎসাহ দিন। এভাবেই ওর প্রাথমিক জড়তা কাটবে।

কোনো কারণে ছাড়াই বাচ্চার সঙ্গে নানা বিষয়ে গল্প করুন। নিজের ছোটবেলার গল্প, বন্ধুবান্ধবদের গল্প, পশুপাখিদের গল্প এমনভাবে বলুন যাতে ও ব্যাপারগুলো শুনে মজা পায়। তাহলে ও নিজের অজান্তেই অনেক কিছু শিখতে পারবে।

গান বাড়িয়ে আপনার বাচ্চাকে নিয়ে নাচুন। গলা ছেড়ে ছড়া বলুন বা গান গাইতে থাকুন। একসঙ্গে বসে পাজল সমাধান করুন। পাড়ার ফাংশনে যোগ দিতে উৎসাহ দিন। এভাবেই ও নিজের ভোকেশন খুঁজে পাবে।

Comments