যেভাবে ভয়কে জয় করে এগিয়ে নেবেন আপনার স্বপ্নকে

মানুষের আদিমতম অনুভূতিগুলোর একটি হলো ‘ভয়’। নিঃসন্দেহে এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুভূতি। কেন?

ছাদের রেলিংয়ের উপরে উঠে হাঁটতে আপনি কখনোই সাহস করবেন না। এখানে আপনি যে বিষয়ে ভয় পাচ্ছেন তা হলো, সেখানে হাঁটা শুরু করলে পা ফস্কে আপনার পড়ে যাবার সম্ভাবনা অনেক বেশি। ফলে হারাতে হতে পারে সাধের জীবনটা। অর্থাৎ এখানে ভয়ই আপনাকে বাঁচিয়ে রাখছে।

Image result for fight or flight

আবার কোনো বিপদের মুখোমুখি হলে আমাদের মাঝে আপনাআপনিই ‘Fight-or-Flight’ মনোভাব জাগ্রত হয়ে যায়। এটাও আমাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। পড়াশোনা ঠিকমতো না করলে পরীক্ষায় খারাপ করার ভয়, কাজ ঠিকমতো না করলে চাকরি হারানোর ভয়, ক্যারিয়ার গড়ার দিকে মনোযোগ না দিলে স্বপ্নকে হারিয়ে ফেলার ভয় সহ নানাবিধ ভয় আমাদেরকে ঘিরে রাখে প্রতিনিয়ত। এগুলো যে দিনশেষে আমাদের জন্যই দরকারি, তা তো আমরা সবাই-ই বুঝি।

কিন্তু, সেই সাথে আরেকটি কথাও গুরুত্বপূর্ণ। ভয়ই কিন্তু আমাদেরকে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া থেকে আটকে রাখে। আমাদের স্বপ্নকে ছোঁয়া থেকেও বিরত রাখে। তাই ভয়কে জয় করাটা খুবই দরকারি।

আপনার ব্যবসাকে বড় করতে কিংবা চাকরি জীবনকে আরো সমৃদ্ধশালী করতে হয়তো নতুন কোনো বিষয়ে আপনার জ্ঞানার্জন করা দরকার, নতুন কোনো ক্ষেত্র আপনার খুঁজে দেখা দরকার, তাহলে দেরি করছেন কেন? সেই নতুনকে ভয় পেয়ে? মনে রাখবেন, আপনার চারপাশে এমন আরো অনেকেই আছে, যারা আপনার দুর্বলতা খুঁজতে ব্যস্ত। তারা যখন আপনার এই দুর্বলতার সন্ধান পেয়ে যাবে, তখন নিজেদের পাশাপাশি নিজেদের কৌশলকে আপগ্রেড করে তারা ঠিকই আপনাকে পেছনে ফেলে যেতে চাইবে। ফলে দিনশেষে আপনিই পেছনে পড়ে থাকবেন।

জীবনটাকে খুব বেশি সহজভাবে নেবেন না ভুলেও। প্রতিনিয়ত নিজের ভয়ের মুখোমুখি হোন, নিজেই নিজেকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিন। প্রতিনিয়ত নিজেকে আপগ্রেড করার মাঝেই আপনার সাফল্যের মূলমন্ত্র নিহিত।

Image result for challenge

ভয়কে জয় করতে বেশ কিছু কৌশল এখানে Wiki How এর সৌজন্যে তুলে ধরা হলো। এগুলো ধাপে ধাপে অনুসরণ করতে পারেন-

  • প্রথমেই খুঁজে বের করুন আপনার ভয়টা আসলে ঠিক কোন জিনিস নিয়ে। এটা নির্দিষ্টভাবে খুঁজে বের করতে হবে। সেই সাথে জিনিসটাকে যে আপনি ভয় পান, তা অন্তত নিজের কাছে স্বীকার করুন। ভয়ের এই স্বীকৃতি ভয়কে জয় করতে বিরাট ভূমিকা রাখবে।
  • এরপর খুঁজে বের করুন নির্দিষ্ট সেই ফ্যাক্টরগুলোকে, যা সেই বিষয়ের প্রতি আপনার ভয়ের অনুভূতিকে জাগিয়ে তোলে।
  • একটু চোখ বন্ধ করে ভাবুন তো, এই ভয়ের বৃত্তে নিজেকে বন্দী করে ফেলায় আপনি জীবনের কত বড় বড় সুযোগ হারাচ্ছেন। এই কল্পনাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
  • বর্তমান যুগ হলো ইন্টারনেটের। তাই ভয়ের বিষয়টি নিয়েই নেটে ঘাটাঘাটি করুন। ভয়টা বাস করছে আপনার মনে। দেখুন ইন্টারনেট বাস্তবজগত সম্পর্কে কী বলে। আপনার কল্পিত ধারণার থেকে বাস্তবে অনেক ফারাক থাকাটাই স্বাভাবিক।
  • এরপর আস্তে আস্তে সেই ভয়ের বিষয়টিরই মুখোমুখি হতে শুরু করে দিন। সবার সামনে কোনোকিছু বলতে গেলে হাত-পা কাপাকাপি করা, ঘেমে যাওয়া, গলা শুকিয়ে আসা, কণ্ঠস্বর কাঁপতে থাকা, কথা আটকে আসার মতো সমস্যায় পড়েন আপনি।
    ঠিক আছে, ধাপে ধাপে শুরু করুন। প্রথমে আয়নার সামনে নিজেই নিজের সাথে কথা বলুন। এটার পাশাপাশি চর্চা চালাতে থাকুন শুদ্ধ উচ্চারণের। দরকারে এজন্য বিভিন্ন ওয়ার্কশপ বা কোচিংয়ের দ্বারস্থও হতে পারেন।

Image result for speaking

শুরুতেই যে আপনাকে বিশাল কোনো স্টেজে শত শত মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হবে, বিষয়টা এমন না। বরং ছোট ছোট পা ফেলেই শুরু করুন। বাসার মানুষদের সাথে বসুন, তাদের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করুন। বন্ধুবান্ধবদের আড্ডায় এতদিন যদি কেবল শ্রোতার হয়ে থাকতেন, তবে এখন থেকে নিজেও কথা বলার অভ্যাসটা শুরু করে দিন। এভাবে নিয়মিত কথা বলাটা আপনার মনের ভেতরে থাকা জড়তা অনেকটাই কাটিয়ে দেবে।

এরপরই আস্তে আস্তে বিভিন্ন জায়গায় চমৎকার বক্তৃতা দিতে আপনার কোনো অসুবিধা হবে না।

মনে রাখবেন, বড় কোনো পরিবর্তনের সূচনাপর্বটা কিন্তু হয় খুব সাধারণভাবে, খুব সীমিত পরিসরে। আপনার ভয়কে জয় করার প্রথম পদক্ষেপটা ছোট হলেও ভবিষ্যতে সেটাই যে বিশাল সম্ভাবনাময় কোনো ক্ষেত্র আপনার সামনে খুলে দেবে না, সেই নিশ্চয়তা আপনি কখনোই দিতে পারেন না।

তাই আবারও বলছি, ভয়কে জয় করুন, জয় করুন নিজের স্বপ্নকেও।

Comments
Comments

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.