ভালো বিতার্কিক হতে যা করবেন

যারা নতুন বিতর্কচর্চা শুরু করেছেন তারা অনেকেই উপযুক্ত দিকনির্দেশনা না পাওয়ায় অনেক সময় বুঝে উঠেন না বিতর্কে কীভাবে বক্তব্য প্রদান করতে হবে। এই প্রবন্ধটি মূলত তাদের জন্যই।

এই পৃথিবীতে যত অভিজাত, সৃজনশীল ও যৌক্তিক শিল্প আছে, তার মধ্যে বিতর্ক হচ্ছে অন্যতম। একটি বিতর্কের সৌন্দর্য অনেকখানি বিতার্কিকদের উপরেই নির্ভর করে। তাই ভালো বিতার্কিক হওয়াটা অনেক জরুরি। যারা নতুন বিতর্কচর্চা শুরু করেছেন তারা অনেকেই উপযুক্ত দিকনির্দেশনা না পাওয়ায় অনেক সময় বুঝে উঠেন না বিতর্কে কীভাবে বক্তব্য প্রদান করতে হবে। এই প্রবন্ধটি মূলত তাদের জন্যই।

একজন ভালো বিতার্কিক হতে হলে আপনাকে কিছু ব্যাপার অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।

যত তথ্য তত ভালো

একজন বিতার্কিকের বক্তব্য অবশ্যই তথ্যবহুল হওয়াটা অনেক জরূরি। আর এজন্য আপনাকে নিয়মিত সাধারণ জ্ঞানের বইগুলো পড়তে হবে। সাম্প্রতিক বিশ্বে দক্ষতা আনতে খবরের চ্যানেলগুলো এবং পত্রিকা পড়ার বিকল্প নেই। তাই একজন ভালো বিতার্কিক হতে হলে আজ থেকেই পত্রিকার খুঁটিনাটি পড়ার অভ্যাস করুন। আর নিয়মিত চোখ রাখুন খবরের চ্যানেলগুলো এবং সাধারণ জ্ঞানের বইয়ে।

বক্তব্য উপস্থাপনা

আপনার বক্তব্য বিচারকমন্ডলী এবং দর্শকমন্ডলীর কতটা ভালো লাগবে তা অনেকখানি আপনার বক্তব্য উপস্থাপনার উপরেই নির্ভর করে। অনেকেই বক্তব্য প্রদানের সময় অনেক নার্ভাস হয়ে পড়েন, গলা কাঁপে কিংবা আপনার কথায় আঞ্চলিক টান আসে কিংবা জড়তা কাজ করে। এই ব্যাপারগুলো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই এগুলো পরিহার করতে হবে। আর এজন্য মানুষের সাথে বেশি বেশি কথা বলা প্রয়োজন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজে নিজে বক্তৃতা দেয়ার চর্চা করুন। তাহলেই এই সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

ব্যক্তিত্ব

ব্যক্তিত্ব বলতে এখানে আপনার কথা বলার ভঙ্গি, চাহনি ইত্যাদি অঙ্গভঙ্গিকে বুঝাচ্ছি। বিতর্কে বক্তব্য প্রদানের সময় নিজের মতামতের পক্ষে দৃঢ়ভাবে বক্তব্য দিতে হবে। তবে এর সাথে খেয়ালও রাখতে হবে বিপক্ষ দলের সাথে যেন কোনো অশালীন আচরণ করা না হয়। বক্তব্যের সময় উত্তেজিত হয়ে দৃষ্টিকটু আচরণ করা থেকেও নিজেকে সংযত হতে হবে।

চোখ ঘন ঘন স্ক্রিপ্টে নয়

বক্তব্য প্রদানের সময় বারবার স্ক্রিপ্টের দিকে তাকালে বিচারক এবং দর্শক উভয়পক্ষই অনেক বিরক্ত হয়। বারবার স্ক্রিপ্টের দিকে তাকানো যাবে না। এই অভ্যাস দূর করতে স্ক্রিপ্টে বিস্তারিত না লিখে যা যা বলতে চান পয়েন্ট আকারে অল্প কথায় লিখুন।

সময়জ্ঞান

বিতার্কিকদের সময়জ্ঞান থাকাটা অনেক জরুরি। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে বা পরে বক্তব্য শেষ করা ভালো না। তাই প্রথমে আপনার হাতে বক্তৃতার জন্য সময় এবং তথ্য কতটুকু আছে তা হিসেব করে নিন। যদি সময়ের তুলনায় তথ্য অনেক বেশি থাকে তাহলে একটু দ্রুত বক্তব্য দেয়ার চেষ্টা করুন, আর তথ্য কম থাকলে ধীরে। তবে অতিরিক্ত দ্রুত কথা বললে তা বোঝা যাবে না আবার অতিরিক্ত ধীরে কথা বললে শ্রোতারা বিরক্ত হবেন- এটাও মাথা রেখে বক্তব্য এবং সময়ে ভারসাম্য রাখবেন।

ঘ্যানঘ্যানকে না বলুন

একই লাইন বারবার ঘুরে ফিরে বললে বক্তব্য বিরক্তিকর হয়ে যায়। পরিবেশ একঘেঁয়ে হয়ে ওঠে এবং বিচারকমন্ডলী এবং শ্রোতারা বক্তব্য শোনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। তাই একই কথা বারবার বলা যাবে না। আর বিতর্কের বিষয় সম্পর্কিত মজার উক্তি বা কথা বলে সবার মনোযোগ ধরে রাখুন।

অনুশীলনের বিকল্প নেই

একজন ভালো বিতার্কিক হতে হলে নিয়মিত বিতর্ক অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই। ভালো বিতার্কিক হতে হলে বিতর্কচর্চার পাশাপাশি অনেক অনেক বিতর্ক শুনতেও হবে। নিয়মিত বিতর্ক শুনলে একই বিষয়কে বিভিন্নভাবে দেখার ক্ষমতা বাড়বে। অবসরে নিজে নিজে বিতর্ক করারও অভ্যাস করে নিন। এতে কথা বলায় ত্রুটি অনেক কমবে।

আশা করি উপরের বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখলেই ধীরে ধীরে আপনি হয়ে উঠবেন একজন ভালো বিতার্কিক। আগামীতে বিভিন্ন প্রকারের বিতর্কে দক্ষ হওয়ার কৌশল বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হবে।

Comments
Comments

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.