১৮ হাজার টাকা বেতনে নিয়োগ দিবে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড

আবেদনের শেষ সময়: ২৯ আগস্ট, ২০১৯

প্রতিষ্ঠান

গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)

পদ

মুয়াজ্জিন

পদসংখ্যা

০১টি

বেতন

১৮,০৮৫/- টাকা

আবেদনের শেষ সময়

২৯ আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ০৫:০০ টার মধ্যে

আবেদনের নিয়মসহ বিস্তারিত জানতে নিচের বিজ্ঞপ্তিটি দেখুন
আরও জব নিউজ পেতে ক্লিক করুন এখানে
ওয়াইএসআই বাংলা জবসে আজই আপলোড করুন আপনার সিভি। রেজিস্ট্রেশনের জন্য ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

কোম্পানি সম্পর্কিত তথ্যাবলী 

জাতীয় গ্যাস গ্রিড এককেন্দ্রিক পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং দেশের সকল অঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাসের সুষম ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় নতুন নতুন পাইপলাইন নির্মাণের মাধ্যমে জাতীয় গ্যাস গ্রিড সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে ১৯৯৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর কোম্পানি আইনের আওতায় পেট্রোবাংলার অধীনে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানী লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর হতে এ কোম্পানি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে জাতীয় গ্যাস গ্রিড পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি নতুন নতুন এলাকাকে গ্যাস সরবরাহ নেটওয়ার্কের আওতায় আনার লক্ষ্যে উচ্চচাপসম্পন্ন গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ এবং জাতীয় গ্যাস গ্রিড সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছে।

প্রতিষ্ঠালগ্নে পেট্রোবাংলার প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিট (পিআইইউ) কর্তৃক নির্মিত ২৪ ইঞ্চি ব্যাসের ১৭৫ কি.মি. দীর্ঘ উত্তর-দক্ষিণ গ্যাস পাইপলাইন ও ৬” ব্যাসের ১৭৫ কিঃমিঃ ব্যাসের কনডেনসেট পাইপলাইন পরিচালনের দায়িত্ব জিটিসিএল-এর উপর ন্যস্ত করা হয়। উক্ত পাইপলাইন এবং পরবর্তীকালে বিগত ২৪ বছরে বিভিন্ন পর্যায়ে জিটিসিএল কর্তৃক সফলভাবে বাস্তবায়িত ২০ (বিশ)টি প্রকল্পের মাধ্যমে নির্মিত ৮৪৫.৬৩ কি.মি. ও সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক পেট্রোবাংলাভুক্ত অন্যান্য কোম্পানি হতে জিটিসিএল-এর নিকট হস্তান্তরিত ৩৬৭.৩৭ কিলোমিটার গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন সহযোগে বর্তমানে কোম্পানির পরিচালনাধীন জাতীয় গ্যাস গ্রিডভুক্ত পাইপলাইনের দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে সর্বমোট ১৫৬০ কিলোমিটার।

দেশে দৈনিক সর্বমোট গ্যাসের উৎপাদন প্রায় ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। কোম্পানি কর্তৃক ১৯৯৪ সালের ১লা মার্চ থেকে প্রথম গ্যাস সঞ্চালন শুরু হয়, যার পরিমাণ ছিল দৈনিক গড়ে প্রায় ৪২ মিলিয়ন ঘনফুট। বর্তমানে জিটিসিএল কর্তৃক পরিচালিত গ্যাস গ্রিডের মাধ্যমে গ্যাস সঞ্চালনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দৈনিক প্রায় ২১৪২ মিলিয়ন ঘনফুট, যা দেশের মোট উৎপাদিত গ্যাসের ৭৯.৩৩%। এর মধ্যে বিজিএফসিএল, এসজিএফএল, বাপেক্স, শেভরণ ও তাল্লো কর্তৃক উৎপাদিত যথাক্রমে দৈনিক ৩৬১, ১২৫, ৮৪, ১৪৭২ ও ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জিটিসিএল সিস্টেমের মাধ্যমে সঞ্চালিত হচ্ছে। জিটিসিএল-এর গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন গ্রিড থেকে পরবর্তীতে টিজিটিডিসিএল-কে ৬৭.৫%, কেজিডিসিএল-কে ১১%, বিজিডিসিএল-কে ১১%, জেজিটিডিসিএল-কে ০৬%, পিজিসিএল-কে ০৪% এবং এসজিসিএল-কে ০.৫% গ্যাস সরবরাহ করা হয়।

সরকারের বিগত ও বর্তমান সময়কালে প্রায় ৯ বৎসরে দৈনিক গ্যাস উৎপাদনের পরিমাণ ৯৯২ মিলিয়ন ঘনফুট হতে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে দৈনিক ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উনড়বীত হয়েছে, যা ডিসেম্বর ২০০৯ এর দৈনিক উৎপাদন ১৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট এর শতকরা হিসেবে প্রায় ৫৬.৮৯% বেশী। দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাস চাহিদা পূরণকল্পে জিটিসিএল কর্তৃক বিগত ৯ বৎসরে ১০”, ১২”, ২০”, ২৪”, ৩০” ও ৩৬” ব্যাসের সর্বমোট ৮৭৯ কিঃমিঃ গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়েছে। এ গ্যাস নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের ফলে রাজশাহী বিভাগীয় শহরে ইতোমধ্যে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। অচিরেই খুলনা বিভাগীয় শহর ও পরবর্তীতে পর্যায়ে মাগুরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও যশোর জেলা শহরে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এছাড়া, গ্যাসের চাপ ও প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আশুগঞ্জে ৩টি এবং এলেঙ্গায় ৩টি কম্প্রেসর ইউনিট স্থাপন করে কমিশনিং করা হয়েছে। ফলে, বর্তমানে গ্যাসের চাপ ও প্রবাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন গ্যাস বিপণন কোম্পানির গ্রাহক প্রান্তে নির্দিষ্ট চাপ ও চাহিদা মোতাবেক গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।

জিটিসিএল পরিচালিত পাইপলাইন ও স্থাপনাসমূহের নির্ধারিত ডেলিভারী পয়েন্ট দ্বারা ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে তিতাস, বাখরাবাদ, কর্ণফুলী, জালালাবাদ, পশ্চিমাঞ্চল ও সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির অধিভুক্ত এলাকায় সর্বমোট ২১৮৩১.১৮ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করা হয় এবং উত্তর-দক্ষিণ কনডেনসেট পাইপলাইনের মাধ্যমে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র হতে ৩২৭.৩২ মিলিয়ন লিটার কনডেনসেট পরিবহন করা হয়।
কোম্পানি কর্তৃক এপ্রিল ১৯৯৪ থেকে জুন, ২০১৭ পর্যন্ত ২০টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। উক্ত প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৪৪৭.০০ কিলোমিটার গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন জিটিসিএল গ্রিডের সাথে সংযুক্ত হবে। ভবিষ্যতে কোম্পানি কর্তৃক আরও ৬টি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৬৪ কিলোমিটার।

২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উচ্চ আয়ের দেশে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে সরকার ” Vision-2021-২০২১ ” বাস্তবায়ন করছে। উন্নয়নের এ অগ্রযাত্রা সমুন্নত রাখার স্বার্থে চাহিদা মোতাবেক প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। দেশীয় গ্যাস ফিল্ডের উৎপাদন ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাওয়ার প্রেক্ষাপটে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ঘাটতি ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যেই বিদেশ হতে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রাথমিকভাবে কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি লিমিটেড কর্তৃক নির্মিতব্য এলএনজি টার্মিনাল হতে প্রাপ্তব্য ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সঞ্চালনের জন্য জিটিসিএল কর্তৃক মহেশখালী-আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।

মহেশখালীতে সামিট কর্পোরেশন লিমিটেড কর্তৃক আরো একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়াও মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় এবং পটুয়াখালী জেলার পায়রা সমুদ্র বন্দরের সন্নিকটে সরকারি, বেসরকারি ও বিদেশী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আরো একাধিক ভাসমান/স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে জিটিসিএল কর্তৃক মহেশখালী-আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালন সমান্তরাল পাইপলাইন এবং চট্টগ্রাম-ফেনী-বাখরাবাদ গ্যাস সঞ্চালন সমান্তরাল পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সূত্র: উক্ত কোম্পানির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট।

Comments
Comments

Comments are closed.