ফটোগ্রাফির প্রথম পাঠ

ছবি তুলতে কে না ভালবাসে? একটা সময় ছিল যখন সবাই ছবি তুলতো তাদের জীবনের স্মরণীয় মুহূর্তগুলোকে ধরে রাখতে। সেসময়ে ফিল্ম ব্যবহার করে ছবি তোলা হতো। একটি ফিল্ম দিয়ে তোলা ছবির সংখ্যা ছিল নির্দিষ্ট। তাই ছবি তুলতেও হতো সতর্কতার সাথে। সেই ছবি আবার পরবর্তীতে স্টুডিওতে গিয়ে প্রিন্ট করতে হতো।

কিন্তু সেদিন কি আর আছে এখন? ফেসবুক, টুইটার আর ইন্সটাগ্রামের এই যুগে আজ ছবি তোলার উদ্দেশ্য শুধু মুহূর্তগুলোকে ধরে রাখা নয়, বরং সেগুলো এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে প্রকাশ করে বাহবা কুড়ানোও বটে।

হাল আমলের এই প্রবণতার পালে হাওয়া লাগিয়েছে প্রযুক্তির উন্নতি। আজ আর কাউকে ফিল্ম নিয়ে ভেবে-চিন্তে ছবি তুলতে হয় না। বরং ছবি ধারণ করে রাখার দায়িত্ব ছোট্ট একটি মেমোরি কার্ডের উপর ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্তে ক্যামেরার সামনে পোজ দেওয়া যায়। যে বিশেষ ধরনের ক্যামেরার বদৌলতে এই বিপ্লব সম্ভব হয়েছে তার নাম হলো ডিজিটাল এসএলআর ক্যামেরা, যার পুরো নাম ডিজিটাল সিঙ্গেল লেন্স-রিলেক্স ক্যামেরা।

এই ক্যামেরার বিভিন্ন ফিচারের মধ্যে অন্যতম হলো এখানে ছবি তোলার ধরনের উপর নির্ভর করে লেন্স পরিবর্তন করা যায় এবং বিভিন্ন অবস্থায় বিভিন্ন আলোতে ছবি তোলার জন্য বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করা যায় । যেহেতু এই ক্যামেরাতে সুযোগ সুবিধা একটু বেশি, তাই বিভিন্ন ফাংশনের বিচিত্রতা অনেক। সেজন্য নতুন নতুন ব্যবহারকারীর কাছে অনেক সময়ই এই ডিএসএলআর ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলা কঠিন মনে হয়। অথচ শুধুমাত্র একটু চিন্তা আর অল্প কিছু জিনিস সম্পর্কে একটু ধারণা থাকলেই মোটামুটি ভালো মানের ছবি তোলা সম্ভব।

কীভাবে? সেটি দেখা যাক-

মনে রাখতে হবে, ক্যামেরার ছবি তোলার মৌলিক কার্যনীতি আমাদের চোখ দিয়ে কোনো বস্তু দেখার মতো। কোনো বস্ত থেকে আলো আমাদের চোখে প্রবেশ করলে আমরা যেমন বস্তুটি দেখতে পাই, ঠিক তেমনি কোনো বস্তু থেকে আলো ক্যামেরাতে প্রবেশ করলে ক্যামেরা সেটির প্রতিচ্ছবি ধারণ করতে পারে। বস্তু থেকে কী পরিমাণ আলো ক্যামেরাতে প্রবেশ করলো, সেটি নির্ণয় করে ছবিটি কেমন হলো। এক্ষেত্রে তিনটি চলক বা প্যারামিটার আলোর প্রবেশকে নিয়ন্ত্রণ করে।

১) শাটারস্পিড
২) অ্যাপারচার এবং
৩) আইএসও/এক্সপোজার

১) শাটারস্পিড

এটি নির্ধারণ করে ক্যামেরার মধ্যে কত সময় যাবত আলো প্রবেশ করবে। সাধারণত ক্যামেরাগুলোতে শাটারস্পিড ১/১০০, ১/৩০০, ১/১০০০ ইত্যাদি রূপে প্রকাশ করা হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, ১/১০০ এর অর্থ হলো ক্যামেরার শাটার চাপ দেওয়ার পর ১ সেকেন্ডের ১০০ ভাগের ১ ভাগ (০.০১ সেকেন্ড) সময় যাবত আলো প্রবেশ করবে। মূলত গতিশীল বা চলমান কোনো বস্তুর ছবি তোলার ক্ষেত্রে এই প্যারামিটারকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হয়।

২) অ্যাপারচার

কখনো কি খেয়াল করেছেন অতিরিক্ত আলো আমাদের চোখে পড়লে আমরা অবচেতন মনে চোখ দুটো ছোট ছোট করে ফেলি যেন আমাদের চোখে কম আলো প্রবেশ করে, তাই না? ঠিক এই কাজটিই ক্যামেরাতে করা হয় অ্যাপারচার দ্বারা।

ক্যামেরাতে কতটুকু জায়গা দিয়ে আলো প্রবেশ করতে দেওয়া হবে সেটা নির্ণয় করা হয় এই অ্যাপারচার দিয়ে। ক্যামেরার লেন্সগুলোতে সাধারণত f/1.8 থেকে শুরু করে f/20 অ্যাপারচার রেঞ্জের থাকে। এখানে একটি জিনিস মাথায় রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। f নাম্বারটি যত ছোট হবে, আলো তত বেশি জায়গা দিয়ে ক্যামেরাতে প্রবেশ করবে এবং f নাম্বারটি যত বড় হবে আলো তত কম জায়গা জুড়ে ক্যামেরাতে প্রবেশ করবে।

আরেকটি বিষয়ের জন্য আমরা অনেক বেশি উৎসুক থাকি, যেটি হলো ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার করা। ব্যাকগ্রাউন্ড কতটুকু ব্লার হবে সেটিও নির্ভর করে এই অ্যাপারচারের উপর।

৩) আইএসও/এক্সপোজার

আইএসও দ্বারা মূলত নির্ধারিত হয় কতটুকু সংবেদনশীল বা সেন্সিটিভ আলো প্রবেশ করছে। আলোর উপস্থিতিভেদে এটি ১০০ থেকে শুরু করে ১২,০০০ পর্যন্ত হতে পারে। আলোর পরিমাণ যত বেশি হয়, আইএসও তত কম রেখে ছবি তুললে সুন্দর দেখায়। তেমনই রাতে কম আলোতে আইএসও বাড়িয়ে দিতে হয় ।

উপরের এই তিনটি প্যারামিটার মাথায় রেখে খুব সহজেই সুন্দর ছবি তুলে ফেলা সম্ভব। তবুও সুবিধা করে উঠতে না পারলে চুপিসারে ক্যামেরাটিকে অটো মোডে নিয়ে যান এবং তুলে ফেলুন আপনার পছন্দের মানুষের এবং পছন্দের মুহূর্তের সুন্দর সুন্দর ছবি।

হ্যাপি ক্লিকিং!

ছবিসূত্র – লেখকের নিজের তোলা কিছু মুহূর্ত
Comments