সুখী-সুন্দর জীবনের জন্য করণীয়

খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা এবং চাপ সামলানোর উপর আপনার জীবন কতটা স্বাস্থ্যকরভাবে কাটবে তা নির্ভর করছে। এই কথা গবেষকদের। নিউরোলজিস্টদের মতে, জীবনভর ভালো থাকার সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পন্থার কথা জিজ্ঞাসা করা হলে তারা নিচের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

১) পজিটিভ চিন্তা এবং কৃতজ্ঞতাবোধ

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পজিটিভ চিন্তা-ভাবনা পরিপাক ব্যবস্থাকে উন্নত করে তোলে, যা কিনা সমগ্র শরীরের উপর প্রভাব ফেলে।

২) খেতে হবে শাকসবজি

কাঁচা, আধ-সিদ্ধ কিংবা হালকা ভাজা শাকসবজি প্রতিদিন খাওয়া উচিত। স্তন, কোলন, পাকস্থলী, অগ্নাশয়, ডিম্বাশয় প্রভৃতির ক্যান্সার প্রতিরোধের কাজ করে এই শাকসবজি। ব্রকলি, গাজর, টমেটো, আঙুর, বাঁধাকপি প্রভৃতি গাঢ় রঙিন সবজির ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট অনেক উপকারী আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য।

৩) খাওয়া যেতে পারে ৫ বেলা

দিনের কোন কোন ভাগে এবং কতটুকু করে খাবার খাওয়া হবে তা নিয়মিত হিসাব করে চালালে আমাদের পরিপাক ব্যবস্থা এবং শক্তির লেভেল উভয়ই স্থিতিশীল অবস্থানে থাকবে। নিয়মিত ৫ বেলা খাবার গ্রহণ ওজন ও চেহারা উভয়ের দিকে যত্ন নিবে।

৪) শরীরচর্চা প্রতিদিন

আপনি কি জানেন যে নিয়মিত শরীরচর্চা বুড়ো হয়ে যাওয়ার সকল চিহ্নের বিরুদ্ধে কাজ করে? উন্নত দৃষ্টিশক্তি, স্বাভাবিক রক্তচাপ, কোলেস্টেরল কমানো, হাড়ের যত্ন প্রভৃতি কাজ এর মাঝে অন্তর্ভুক্ত। আপনি যদি ভালোভাবে এবং অনেক দিন বেঁচে থাকতে চান তো শরীরচর্চা আবশ্যক, ১০ মিনিটের জন্য হলেও।

৫) রাতে ভালো ঘুম

যদি ঘুম ঠিকমতো না হয় তবে রিল্যাক্স হওয়ার জন্য আপনি ধ্যান কিংবা ইয়োগা করতে পারেন। কিংবা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে হালকা নাস্তা, যেমন দুধ, গম ইত্যাদি পান করে নেওয়া যেতে পারে যাতে করে আপনার মন ও শরীর ঘুমের দিকে ঝোঁকে। দুশ্চিন্তা, কাজের চাপ ইত্যাদি সব কিছু মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন স্বাস্থ্য ভালো রাখতে চাইলে।

৬) খাবারের লিস্ট চেক করুন

আমরা কী খাই এবং কী অনুভব করি তা এক জটিল সুতা দ্বারা যেন পেঁচানো। সেসব খাবার খাওয়া উচিত যেগুলোতে আমাদের শক্তি বাড়ে এবং তৃপ্তি আসে। ওজন কমাতে হবে এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে খাবারের লিস্ট বানানো উচিত নয়। তাজা ফল, বীজ জাতীয় শস্য এবং সবজি স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকা বানাবে।

৭) বাচ্চাদের খাবার আনবে ভিন্নতা

যদি গতানুগতিক শাকসবজি আপনার আর খেতে ইচ্ছে না হয় তবে আপনার স্কুল জীবনে একেবারে ছোটকালের খাবারের স্বাদ নিতে পারেন, যেমন- চেরি টমেটো, ব্রকলি, শুকনো ফল ইত্যাদির।

৮) সময় দিন নিজেকে

 

অনবরত কাজ আপনার শরীরের কাজ করার দক্ষতাকে আরো কমিয়ে দিতে পারে। এমনকি উৎসাহের অভাব, মানসিক উদ্বিগ্নতা ইত্যাদি আপনাকে চেপে ধরতে পারে এই অতিরিক্ত কাজের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে। মাঝে মাঝে নিত্যদিনের রুটিন থেকে নিজের জন্য একটু সময় বের করে তা উপভোগ করা উচিত। এটি আপনাকে আরো কাজ করার ক্ষমতা দেবে।

৯) ভালো সঙ্গী নির্বাচন করুন

আপনার অভ্যাস ঠিকঠাক থাকলেও আপনার সাথে যাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাদের যদি কোনো বদ অভ্যাস থেকে থাকে তবে তা আপনার উপরও প্রভাব ফেলবে। তাই আপনি যখন শরীরচর্চা করছেন কিংবা সুষম খাবার খাচ্ছেন তখন তা তাদেরও খেতে দিন।

১০) বেরিয়ে পড়ুন কোথাও

কেবলমাত্র মেদ কমানোর জন্য শরীরচর্চা একটা সময়ে গিয়ে একঘেয়ে হয়ে উঠবে। তাই এই একঘেয়েমিভাব দূর করতে আপনি দৌড় কিংবা সাইকেল প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করতে পারেন। মজার সাথে যেকোনো কাজ করলে তার ফল হয় আরো মধুর।

Comments