বুক সর্টার নিয়োগ দেবে আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর

আবেদনের শেষ সময়: ১২ জুন ২০১৯

প্রতিষ্ঠান

আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর

পদ : বুক সর্টার

পদসংখ্যা : ১

শিক্ষাগত যোগ্যতা : এসএসসি পাস

বেতন : ৮,৫০০-২০,৫৭০/-

আবেদনের শেষ সময়

১২ জুন ২০১৯

আবেদনের নিয়মসহ বিস্তারিত জানতে নিচের বিজ্ঞপ্তিটি দেখুন

আরও জব নিউজ পেতে ক্লিক করুন এখানে
ওয়াইএসআই বাংলা জবসে আজই আপলোড করুন আপনার সিভি। রেজিস্ট্রেশনের জন্য ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়

ইতিহাস

একটি আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে সংস্কৃতির গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বের ইতিহাসে বাঙালি ব্যতিক্রমী জাতি। ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম হয়। সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে বাঙালি ঠিক করে নেয় তার সাংস্কৃতিক আত্ম-পরিচয়। স্বাধীনতার পর এটি আরো স্পষ্টত প্রতীয়মান যে দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা উচিত।

স্বাধীন জাতি হিসেবে বিদেশি রাষ্ট্রের সাথে সাংস্কৃতিক চুক্তি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রমের মাধ্যেমে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য। আর এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় ১৯৭২ সালে ‘সংস্কৃতি ও ক্রীড়া’ বিষয়ক একটি বিভাগ গঠন করা হয়। আর তখন থেকেই দেশের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিকাশে এ বিভাগ কাজ করছে।

পরবর্তীকালে এ বিভাগকে ‘শ্রম ও কল্যাণ’ মন্ত্রণালয়ের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়। একই বছরে এ বিভাগকে পুনরায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। ১৯৭৮ সালে এ বিভাগকে ‘ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ হিসেবে নামকরণ করা হয়।

১৯৭৯ সালে এ মন্ত্রণালয়ে ধর্ম বিষয়কে সম্পৃক্ত করে ‘ধর্ম, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠন করা হয়।

১৯৮০ সালে এ মন্ত্রণালয়কে বিভাজন করে দু’টি স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় – ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা হয় ।

১৯৮২ সালে প্রশাসনিক নীতি পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে এ মন্ত্রণালয়কে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে ‘ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিভাগ’এ রূপান্তরিত করা হয়। ১৯৮৩ সালে এ বিভাগকে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। একই বছরে ক্রীড়া এবং সংস্কৃতি বিভাগ থেকে ক্রীড়া বিষয়ক কার্যাবলিকে পৃথক করে ‘যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়’ নামে একটি নতুন মন্ত্রণালয় সৃজন করা হয়। সংস্কৃতি বিষয়ক কার্যাবলিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি স্বতন্ত্র বিভাগের অধীনে ন্যস্ত করা হয়।

বর্তমানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি পূর্নাঙ্গ মন্ত্রণালয় হিসেবে কাজ করছে । এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন জনাব কে এম খালিদ, এমপি  এবং সচিব হিসেবে কাজ করছেন ড. মো: আবু হেনা মোস্তফা কামাল, এনডিসি ।

অভিলক্ষ্য

দেশজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সমকালীন শিল্প ও সাহিত্য সংরক্ষণ এবং  গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে জাতির মানসিক বিকাশ ও উৎকর্ষ সাধন।

আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার ইতিবৃত্ত

১৮৯১ সনের ১১ মার্চ কোলকাতায় ইমপেরিয়াল রেকর্ড ডিপার্টমেন্ট প্রতিষ্ঠিত হয়।  ১৯৪৭ সনে দেশ বিভাগের পর ইমপেরিয়াল রেকর্ড ডিপার্টমেন্টই ন্যাশনাল আরকাইভস অব ইন্ডিয়া নামে পরিচিতি পায়।  ১৯৫১ সনের নভেম্বরে করাচীতে ডাইরেক্টরেট অব আরকাইভস এন্ড লাইব্রেরিস এর অধীনে ন্যাশনাল আরকাইভস অব পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতা পূর্বকালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জাতীয় গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে  উক্ত অফিসের শাখা অফিস হিসেবে ঢাকার মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডের ভাড়া বাড়িতে ‘‘ডেলিভারী অব বুকস এন্ড নিউজ পেপার শাখা’’ নামে একটি অফিস চালু ছিল।  জাতীয় আরকাইভস এর কোন শাখা পূর্ব পাকিস্তানে ছিল না।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ সময়ে উক্ত অফিসের দায়িত্বে ছিলেন জনাব মোঃ আবুল হাশেম। যুদ্ধ চলাকালে সহকারী পরিচালক জনাব সাহাবুদ্দিন খান করাচী থেকে চলে এসে সেখানে যোগদান করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষে তারা ১০৩ পুরাতন এলিফ্যান্ট রোডে একটি পরিত্যক্ত বাড়ীর দোতলায় শাখাটি স্থানান্তর করেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবান দলিলসমূহসহ সরকারের স্থায়ী রেকর্ডস ও আরকাইভস সমূহ সংরক্ষণের গুরুত্ব অনুধাবন করে ১৯৭২ সনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নির্দেশনায় সদ্য স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক বিভাগের অধীনে জাতীয় আরকাইভস ও জাতীয় গ্রন্থাগার এর সমন্বয়ে আরকাইভস ও গ্রন্থাগার পরিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করে।

৬ নভেম্বর ১৯৭২ তারিখে ড. খোন্দকার মাহবুবুল করিম, পরিচালক, পাকিস্তান ডাইরেক্টরেট অব আরকাইভস এণ্ড লাইব্রেরিস পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগদান করলে তাকে পরিচালক, আরকাইভস ও গ্রন্থাগার পরিদপ্তর হিসেবে এডহক দায়িত্ব প্রদান করা হয়।  ১৯৭৩ সনের মধ্যে পাকিস্তান থেকে অন্যান্য বাঙ্গালি কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ রিপ্যাট্রিয়েশনের মাধ্যমে দেশে ফেরৎ এসে ১০৩ পুরাতন এলিফ্যান্ট রোড এবং ৩৭২ পুরাতন এলিফ্যান্ট রোড অফিসে যোগদান করেন।  এরপরই প্রথম ৪৮টি পদ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অস্থায়ী জনবল কাঠামো ও বাজেট অনুমোদিত হয়।

১৯৭৪ সনের ৩ জানুয়ারি সরকার  জাতীয় আরকাইভস ও জাতীয় গ্রন্থাগারের জন্য ৩২, বিচারপতি এস.এম মোর্শেদ সরণি, আগারগাঁও, শেরেবাংলা নগর এর বর্তমান জায়গায় ২ একর করে মোট ৪ একর জমি বরাদ্দ করে। প্রথম পাঁচশালা পরিকল্পনার আওতায় জাতীয় আরকাইভস ও জাতীয় গ্রন্থাগারের স্থায়ী ভবন নির্মাণের জন্য সরকারের নিকট প্রকল্প প্রস্তাব দাখিল করা হয়। শেরেবাংলা নগরের অন্যান্য ভবনসমূহের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থপতি খন্দকার মাজহারুল ইসলাম এর নেতৃত্বে ভবনটির স্থাপত্য নকশা তৈরি করা হয়। প্রকল্প প্রস্তাব ও নকশা অনুমোদনের পর প্রথম পর্যায়ে জাতীয় গ্রন্থাগার ভবনের নির্মাণ কাজ শুরুর লক্ষ্যে ২১ জানুয়ারি ১৯৭৮ তারিখে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপিত হয়।  ১৯৭৯ সনে ১০৩ পুরাতন এলিফ্যান্ট রোড থেকে জাতীয় গ্রন্থাগার ১০৬, সেন্ট্রাল রোডের ভাড়া বাড়ীতে স্থানান্তর করা হয়।

ভবন নির্মাণ শেষে ১৯৮৫ সনের ১ নভেম্বর জাতীয় গ্রন্থাগারের স্থায়ী ভবন আগারগাঁও এ স্থানান্তরিত হয়। কিছুদিন পর ৩৭২ এলিফ্যান্ট রোড থেকে জাতীয় আরকাইভসও জাতীয় গ্রন্থাগার ভবনে স্থানান্তরিত হয়।

১৯৯৫ সনে  জাতীয় আরকাইভস ভবন নির্মাণ (প্রথম পর্যায়) শুরু হলে ২০০১ সনের ১৪ জুন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ জাতীয় আরকাইভস ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।  ২০০৬ সালে জাতীয় আরকাইভস তার নিজস্ব ভবনে কার্যক্রম শুরু করে।  সর্বশেষ ১৬ আগস্ট ২০১৬ তারিখে ৪১ টি নতুন পদ সৃষ্টির জিও জারির মাধ্যমে আরকাইভস ও গ্রন্থাগার পরিদপ্তরকে অধিদপ্তরে উন্নীত করার আদেশ জারি হয়।  জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখের ০৫.০০.০০০০.১৩২.১৯.০০১.১৭-১২৬ নম্বর আদেশের অনুবৃত্তিক্রমে ১২ মার্চ ২০১৮ তারিখে অতিরিক্ত সচিব জনাব দিলীপ কুমার সাহা এ অধিদপ্তরের প্রথম মহাপরিচালক হিসেবে যোগদান করেন।

Comments
Comments

Comments are closed.