আত্মবিশ্বাসী হন, সুস্থ থাকুন

0

আজকাল হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে যত তরুণ দেখা যায়, তাদের অনেকের একটি কমন সমস্যা হলো তারা আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। এ ব্যাপারটি তরুণদের মাঝে খুব প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে আধুনিক যুগে। ইন্টারনেটের কল্যাণে বর্তমান যুগে আমরা আর এক গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ নেই। আমাদের পরিচিতি ঘটছে বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষের সাথে। এই বিষয়টি একদিকে যেমন মজার, তেমনি অন্যদিকে উদ্বেগের কারণও হতে পারে।

যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে অনেক সময় ব্যয় করে থাকে, তাদের অনেকেই ভার্চুয়াল বন্ধুদের কাছ থেকে একটি পজিটিভ কমেন্ট পাওয়ার জন্য আশা করে থাকে। ফেসবুকে যেমন আমরা প্রায়ই “Am I popular?” কিংবা “Am I liked?” ইত্যাদি প্রশ্ন সম্বলিত বিভিন্ন অ্যাপসে গেম খেলতে পছন্দ করি। এসকল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি তার ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করে এবং সে অনেকটা এই ভার্চুয়াল জগতের মানুষগুলোর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে তার ব্যক্তিত্বের মূল্যায়নের জন্য।

তরুণরা নিজেরা কিভাবে নিজেদের মূল্যায়ন করতে পারে সেই উপায় আয়ত্ব করা উচিত নাকি এই ভার্চুয়াল জগতের কমেন্টের উপর? তাদেরকে আসলে আত্মবিশ্বাসের উপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করতে হবে।

অজ্ঞাতকে জ্ঞাত করা

সামাজিক মিডিয়াতে নিজের সম্পর্কে জানার নানা অ্যাপস থাকে। এগুলোতে বিভিন্ন প্রশ্ন, যেমন- “আমি কোনো কাজের কিনা?’’ বা “আমার পরিচয় কী আসলে?” ইত্যাদি থাকে। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পেতে তরুণরা অনেক সময় ব্যাকুল হয়ে ওঠে এই অ্যাপসের মাধ্যমে। আসলে এই প্রশ্নগুলো তাদেরই অবচেতন মনের। সুতরাং তাদের উচিত এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কোনো বিশ্বস্ত মিডিয়া থেকে সংগ্রহ করা কিংবা আত্মবিশ্লেষণ করা।

অন্যদিকে, সামাজিক এই মিডিয়াকে তারা তাদের প্রতিভা তুলে ধরার এক মঞ্চ হিসেবে কল্পনা করতে পারে। বন্ধু কিংবা কোনো সুপারস্টারের সাথে সেফলি আপলোড করে অন্যদের দেখানোর চেয়ে এই মঞ্চে নিজের প্রতিভা দেখানো অনেক বেশি অর্থবহ।

এই ভার্চুয়াল জগতের বন্ধুরা যদি আপনার প্রতিভা দেখে পজিটিভ সাড়া দেয়, তবে তা আপনার মনে ভালো লাগার সৃষ্টি করবে। কিন্তু যদি এর বিপরীতটা ঘটে তবে তা যেন আপনার আত্মবিশ্বাসকে ভাঙতে না পারে, সেদিকটাতেও খেয়াল রাখতে হবে। অন্যদিক মা-বাবা তাদের সন্তানের আত্নবিশ্বাস বাড়াতে পারেন কেবলমাত্র তাদের দিনটা কিভাবে কাটলো কিংবা স্কুল কেমন গেল তা না জিজ্ঞেস করে এটাও জিজ্ঞেস করে যে অনলাইনে তাদের সাথে আজ কী কী ঘটলো।

প্রতিটি মানুষের আত্মবিশ্বাস যোগানোর পন্থা ভিন্ন। তবে তরুণরা যেহেতু তাদের পরিচয়কে তুলে ধরার এক প্রচেষ্টায় থাকে, তাই তারা অন্যের কাছ থেকে, বিশেষ করে এই ভার্চুয়াল বন্ধুদের কাছ থেকে, বেশি মূল্যায়ন পাবার আশা করে থাকে।

আত্মবিশ্বাসের ভেতর এবং বাইরের উৎস

আত্মবিশ্বাস যোগানোর বাইরের উৎস বলতে অন্য মানুষ থেকে ফিডব্যাক পাওয়ার কথা বোঝানো হয়েছে। অন্যদিকে ভেতরের পন্থা বলতে আত্মবিশ্লেষণের মাধ্যমে সাহস, মনোবল যোগানো ইত্যাদিকে বোঝানো হয়েছে। এখান থেকে সহজেই বোঝা যাচ্ছে যে, ২য় পন্থাটিই বেশ কার্যকর।

ফেসবুকে কতটা লাইক পেলেন তার উপর আত্মবিশ্বাসের বীজ বপন না করে বরং নিজের মনের মধ্যে সেই বীজ বপন করলে আপনার মানসিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পারবেন আপনি নিজেই।

Comments
Leave a comment