ফটোগ্রাফির দ্বিতীয় পাঠ: হোয়াইট ব্যালেন্স

কিছুদিন আগেও এমন একটি সময় ছিল যখন একান্ত প্রয়োজনীয় মুহূর্ত ছাড়া কেউ ছবি তুলতো না। কিন্তু প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে মানুষের চাহিদা, অভ্যাসেও পরিবর্তন এসেছে। তাই এখন মানুষ শুধু কারণে-অকারণে ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোডই করছে না, বরং কেউ কেউ ছবি তোলা বা ফটোগ্রাফিকে পেশা বা শখ হিসেবেও নিচ্ছে। তাই বলা যায়, একটি ডিজিটাল সিঙ্গেল লেন্স রিফ্লেক্টর বা ডিএসএলআর ক্যামেরা যেমন এসব ছবিপ্রেমী মানুষের বিনোদনের খোরাক যোগাচ্ছে, তেমনই কারো রোজগারের ব্যবস্থাও করছে।

তবে প্রথম সমস্যাটি হয় ক্যামেরা কেনার পর। যেহেতু এই ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যাপ্তি বিশাল, তাই ইউজার ইন্টারফেস নিয়ে বিপদে পড়েন অনেকে। শাটারস্পিড কত দিলে ছবিতে মোশন ব্লার আসবে না, অ্যাপারচার কত রাখলে সবথেকে বেশি ব্লার পাওয়া যাবে, দিনে আইএসও কম রাখতে হবে নাকি বেশি- এসব ঝামেলায় পড়েন বেশিরভাগই।

ক্যামেরার শাটার স্পিড, অ্যাপারচার, আইএসও নিয়ে পড়তে ক্লিক করুন: এই লিঙ্কে

শাটার স্পিড, অ্যাপারচার,আ ইএসও এর ব্যবহার শিখে ফেলার পর যে ঝামেলাটিতে পড়তে হয়, তা হলো হোয়াইট ব্যালেন্স। অনেক সময় দেখা যায়, ছবি তুললে ছবি খুব বেশি নীলাভ আসছে, আবার কখনো দেখা যায় ছবি খুব বেশি হলদেটে আসছে। যারা এমন সমস্যায় পড়েছেন, তারা একদম দেরি না করে লেখাটি পড়ে নিন।

হোয়াইট ব্যালেন্সের কাজ হলো ছবিতে কালার নিয়ন্ত্রণ করা। যদি এর বাংলা করি, তাহলে দাঁড়ায় ‘সাদাকে নিয়ন্ত্রণ করা’। বাস্তবিক হোয়াইট ব্যালেন্সের কাজও এটা। ক্যামেরা যখন কোনো রঙ শনাক্ত করে, তখন সে সাদাকে মানদণ্ড বিবেচনা করে সাদার সাপেক্ষে অন্য রঙগুলোকে শনাক্ত করে। তাই কোনোভাবে ক্যামেরাকে সাদা বাদে অন্য কোনো রঙকে আদর্শ ধরে নিয়ে রঙ শনাক্ত করতে বলে দিলে সে আর আসল রঙ বুঝতে পারবে না। উদাহরণস্বরুপ, নীল রঙকে দেখাবে সবুজ, হলুদকে দেখাবে কমলা ইত্যাদি।

আবার হোয়াইট ব্যালেন্সকে একটু ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। এক টুকরো সাদা কাগজকে আমরা সাধারণ আলোতে সাদা দেখতে পাই। আলোক উৎসের তাপমাত্রা যদি আস্তে আস্তে বাড়ানো হয়, তাহলে কাগজের টুকরাটি দেখতে ধীরে ধীরে হলদেটে মনে হয়, যদিও আমরা সেটা পর্যবেক্ষণ করতে পারি না। আমাদের চোখ এই পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নেয়, যা আমাদের ক্যামেরা পারে না। তাই তাকে বলে দিতে হয়। এই বলে দেওয়ার মাধ্যমটিই হচ্ছে হোয়াইট ব্যালেন্স।

ধরা যাক, কম তাপমাত্রার আলোতে ছবি তোলা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ছবির আসল রঙ পেতে হলে ছবি তাপমাত্রা বৃদ্ধি করতে হবে। আবার বেশি তাপমাত্রার আলোতে ছবি তোলা হলে তাপমাত্রা কমাতে হবে। এই কাজটিই করা হয় হোয়াইট ব্যালেন্স সেট করার সময়।

সব ক্যামেরাতেই পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে কয়েক রকম হোয়াইট ব্যালেন্স মোড সেট করা থাকে। এখন সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো।

টাংস্টেন

এই মোডটি মূলত ইনডোরে ছবি তোলার ক্ষেত্রে অথবা লাইট সোর্স হিসেবে টাংস্টেন বাল্ব ব্যবহার করা হলে ব্যবহার করা হয়। এই মোড ব্যবহারের ম্যাধমে ক্যামেরাকে আলোর তাপমাত্রা কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

ফ্লুরোসেন্ট

এই মোডটি মূলত সাদা আলো উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হলে ব্যবহার করা হয়। ফ্লুরোসেন্ট আলোর তাপমাত্রা অনেক কম থাকে, তাই এই মোড ব্যবহার করলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।

ডেলাইট/সানি

দিনের বেলা সূর্যের চড়া আলোতে অথবা কড়া রোদের মাঝে ছবি তোলার সময় এই মোড ব্যবহার করা হয়।

ক্লাউডি

আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে এই মোড ব্যবহার করা হয়। এই মোড ব্যবহারে ক্যামেরা আলোক উৎসের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

শেড

পড়ন্ত বিকেলে ছায়ার মাঝে ছবি তোলার সময় এই মোড ব্যবহার করা হয়। তাই এই মোড ব্যবহার করলে আলো একটু ওয়ার্ম বা বেশি তাপমাত্রার পাওয়া যাবে।

অটো

ডিএসএলআর ক্যামেরার অন্যতম একটা ভালো দিক হলো এর যেকোনো জটিল ফাংশন বুঝতে না পারলেও ক্ষতি নেই। অটো মোডে ব্যবহার করলে ক্যামেরা নিজের মতো করে ঠিক করে নেয়। হোয়াইট ব্যালেন্সের ক্ষেত্রে অটো মোড বেশ কার্যকর। একই পরিবেশের কয়েকটি ছবি তুললে ক্যামেরা নিজে নিজেই একটা ধারণা করে নেয় ছবির রঙগুলো সম্পর্কে। তবে অনেক সময় এই মোড ব্যবহার করে খুব ভালো মানের ছবি আসে না।

ফ্লাশ

এই মোডটি অনেকটা দিনের আলোর মতোই কাজ করে।

কাস্টম

আপনি যদি উপরোক্ত কোনো পরিস্থিতিতে না থাকেন, তবে আপনি কালার কম্পোজিশনের মাধ্যমে কাস্টম হোয়াইট ব্যালেন্স তৈরি করেও নিতে পারবেন। তাই আলোর উৎস যেমনই হোক না কেন, ছবি তোলা যাবে নিজের মনের মতো করে।

তবে আনন্দের বিষয় এই যে, ছবি তোলার আগেই যে ক্যামেরাতে হোয়াইট ব্যালেন্স ঠিক করে নিতে হবে এমন কথা নেই। ছবি তোলার পর ছবি এডিট করেও কালার ব্যালেন্স করে নেওয়া যায়। সেক্ষেত্রে ‘র’ ফরম্যাটে ছবি তোলার পরামর্শ দেওয়া হলো। জেপিইজি ফরম্যাটে তুললে ঠিকঠাক এডিট করতে সমস্যা হয়।

Comments
Comments

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.