দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার ১০টি কৌশল

ইদানিং সবার একটি গতানুগতিক সমস্যা হলো রাতে ঘুমোতে না পারা। এ সমস্যা সমাধানের জন্য রয়েছে কিছু কৌশল। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই কৌশলগুলো সম্পর্কে।

১. শুয়ে শুয়ে বই পড়ুন

ঘুমের জন্য একটি শর্ত হলো আপনার রুমের আলো নিভানো থাকতে হবে। এর সাথে বেডসাইড আলো জ্বালিয়ে একটি বই পড়তে পারেন। এটি জ্ঞান অর্জনের জন্য আলাদা কোনো পড়া নয়। এমন কিছু পড়ুন যা সচরাচর পড়েন না। আপনার আগ্রহ কম এমন বিষয়ের কোনো বই। মস্তিষ্ক একটু পর আপনার আগ্রহহীন পড়ায় মনোযোগ দেয়ার চেয়ে শান্ত এবং আলোহীন পরিবেশ পেয়ে ঘুমিয়ে পড়ার পরামর্শ দেবে। আপনি ঘুমের অতলে হারিয়ে যেতে পারবেন।

২. একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান

আমাদের শরীরের প্রতিটি কাজ রুটিন অনুযায়ী সম্পাদিত হয়। নিয়মিত একই সময়ে ঘুমাতে গেলে ব্রেন আপনাকে ওই সময়টাতে ঘুমের জন্য তৈরি করবে। বিনিময়ে আপনি ভালে একটি ঘুম পেতে পারেন। আপনার ঘুম আর জেগে ওঠার মাঝে একটি ছন্দ তৈরি হবে।

৩. স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন

নিয়মিত স্বাস্থ্যকর, ভারসাম্যপূর্ণ খাবার খেলে আপনি শুয়ে পড়ার সাথে সাথে ঘুমিয়ে পড়তে পারবেন।ম্যাগনেশিয়াম, পটাসিয়ামপূর্ণ খাবার এবং সেই সাথে প্রচুর ফলমূল আর শাক-সবজি খেলে আপনার ভালো ঘুমের হার নাটকীয় পরিমাণে বেড়ে যাবে। শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ আহার আপনার শরীরকে ঠিক রেখে ঘুমের ব্যাঘাত হওয়া ঠেকাবে।

৪. আপনার শোবার ঘরটি তুলনামূলক ঠান্ডা রাখুন

ঘুমানোর সময় আপনার ঘরটি যতটুকু সম্ভব শীতল করে রাখুন। এর সাথে আমাদের শরীরের তাপমাত্রার সম্পর্ক রয়েছে। একটি গবেষণায় দেখা যায়, যাদের ঘরটি ঘুমানোর সময় শীতল থাকে, তারা দ্রুত গভীর ঘুমে তলিয়ে যেতে পারেন। আমাদের শরীরের তাপমাত্রা যখন কমে যায় তখন শরীর নিজেকে রিলাক্স করে দেয়।

৫. ঘুমানোর পূর্বে যোগব্যায়াম করতে পারেন

আপনার যদি ঘুমাতে অসুবিধা হয় এবং ঘুম না আসে, তবে আপনি যোগব্যায়াম করতে পারেন। এটি আপনার মনকে শান্ত করবে। আপনার পুরো শরীরকে রিলাক্সড করবে। এই দুটি উপাদান আপনার ঘুমকে দারুণভাবে প্রভাবিত করবে। এর করার ফলে আপনি গভীর ঘুমে হারিয়ে যেতে পারবেন।

৬. মেডিটেশন করে ঘুমাতে যান

এটি দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার দারুণ কার্যকর একটি পদ্ধতি। ঘুমের জন্য বিশেষ পদ্ধতির মেডিটেশন করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। অভ্যাসটা যত পাকাপোক্ত করবেন, তত ভালো ঘুম আপনি প্রত্যাশা করতে পারবেন। এটা আপনার শারীরিক এবং মানসিকভাবে ঘুমের ছন্দ তৈরি করবে। শরীরকে রিলাক্স করে দেয়া এবং বিশেষ পদ্ধতির নিঃশ্বাসের মাধ্যমে আপনি গভীর এবং সুন্দরভাবে ঘুমিয়ে নিতে পারবেন।

৭. সামান্য গরম দুধ পান করুন

দ্রুত গভীর ঘুমের জন্য দুধও ভালো একটি উপাদান। নিয়মিত ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধ পান করার অভ্যাস করুন। দুধ পান করলে শরীর একটু রিলাক্সড হয়ে পড়ে। সাইকোলজিক্যালি একটি ব্যাখ্যা হলো, আমরা যখন দুধ পান করি, তখন আমাদের অচেতন মন শিশু থাকাকালে মায়ের দুধ পান করে ঘুমিয়ে পড়ার কথা স্মরণ করে। তাই আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। দুধের মাঝে উপস্থিত নানা উপাদান ঘুমিয়ে পড়তে সাহায্য করে।

৮. ক্যাফেইন পান করা থেকে বিরত থাকুন

আপনার যদি দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার ইচ্ছা থাকে তবে ঘুমের সময়টাতে ক্যাফেইন গ্রহণ থেকে দূরে থাকুন। এটা হতে পারে চা, ক্যাফেইন সমৃদ্ধ চকলেট কিংবা কফি। গবেষণা দেখিয়েছে, আপনি যদি দুপুর তিনটার পর ক্যাফেইন গ্রহণের হার কমিয়ে দেন, তবে সেটা আপনার ঘুমে প্রভাব কম ফেলবে। তাছাড়া সন্ধ্যার পর একেবারে না পান করাই উত্তম।

৯.ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি থেকে দূরে থাকুন

এখনকার যুগের আধুনিক মানুষদের জন্য ভালো একটি পরামর্শ হলো, ঘুমানোর সময় ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি থেকে যতটুকু সম্ভব দূরে থাকুন। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব যন্ত্রপাতি থেকে কিংবা অন্যভাবে নিঃসৃত নীল আলো আপনার ঘুমকে ব্যাহত করে। আপনার ল্যাপটপ, মোবাইল- এগুলো ঘুমানোর এক ঘন্টা আগে থেকে নাগালের বাইরে রাখুন। এতে করে আপনার মনোযোগ ঘুমের দিকে সরিয়ে নিতে পারবেন। আপনি ভালো ঘুমাতে পারবেন।

১০. আপনার শোবার ঘরকে যথাসাধ্য অন্ধকার রাখুন

অন্ধকার রুম গভীর ঘুমে হারিয়ে যাওয়ার খুব ভালো একটি উপাদান। আপনি যদি দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে চান, তাহলে আপনার রুমকে যতটা সম্ভব অন্ধকার করে ফেলুন। এতে করে আপনার চোখ এবং ইন্দ্রিয়গুলো বিশ্রাম নিতে শুরু করবে। আপনার শরীরও ঘুমের জন্য তৈরি হবে, আলো জ্বললে যা সম্ভব নয়। তাই ঘরটা অন্ধকার রাখুন।

Comments
Comments

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.